মালদার প্রাচীনতম কালী পূজার মধ্যে মনস্কামনা মন্দিরের মায়ের পূজা বহু পুরনো। আজ থেকে প্রায় ২৫০ বছর পুরনো। মন্দিরের পুরোহিত সুনিল তেওয়ারী জানান, প্রায় ২৫০ বছর ধরে মায়ের পূজা হয়ে আসছে এই মন্দিরে। বর্তমানে মন্দিরের চার পাশে জনবসতি থাকলেও আগে মায়ের মন্দিরের জায়গার চারি পাশে ছিল জঙ্গলে পরিপূরণ। আর সেই জঙ্গলের মধ্যেই ছিল মায়ের মন্দির। সে সময় মন্দিরের আশেপাশে দৃশ্য ছিল ভয়ানক। মন্দিরে যে পুরোহিত পুজো করতে আসতেন তিনি সকাল নয়টার সময় একবার পুজো করতে আর সন্ধ্যা হওয়ার আগে বেলা তিনটা নাগাদ সন্ধ্যার পুজো করতেন। তখন মন্দের পুজো হলেও কোন ভক্তের আসা ব্যাপারটা তেমন ভাবে ছিল না।
মন্দিরের বর্তমান পুরোহিত সুনিল তেওয়ারী আরও জানান, মন্দিরের ইতিহাস থেকে যা জানা গিয়েছে তাতে এই মন্দিরে সর্ব প্রথম পূজা করতেন পরমানন্দ গিরি। তিনি একজন সন্যাসী ছিলেন। তিনিই প্রথম এই মন্দিরে মায়ের পূজা করতেন। তিনি প্রয়াত হবার পর মন্দিরের সমস্ত দায়িত্বে আছেন বর্তমান পুরোহিত সুনিল তেওয়ারী। তাঁর পূর্বপুরুষ থেকে সকলেই বংশ পরম্পরায় মায়ের পূজা করে আসছেন।
বর্তমানে জনবসতি বেড়ে বদলেছে অনেক কিছুই। মায়ের মন্দিরে এখন প্রায় প্রতিদিনই ভক্তের সমাগম লক্ষ্য করা যায়। কালী পূজার সময় হাজার হাজার ভক্তের ঢল নামে মন্দির প্রাঙ্গনে। মায়ের মন্দিরে বলি প্রথা নিসিদ্ধ রয়েছে। তবু যদি কোন ভক্ত অজান্তে কোন জীবজন্তু মানত করতেন তাহলে মন্দিরে পূজা দেওয়ার পর সেই জীবজন্তুকে বলি নাদিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মায়ের মন্দিরে একটি বেদী করা রয়েছে যার উপরে মায়ের মায়ের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। মায়ের চোখ ও জিহ্বা পুরোটা সোনার তৈরি। এখন মন্দিরে মায়ের পূজা হয় ১২ মাসই। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত এবং বিকেল পাঁচটা থেকে রাত্রি নয়টা পর্যন্ত। এই ভাবে সারা বছরই চলে মায়ের পূজা।